আমরা অনেকেই মহাকাশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানি।কিন্তু মহাকাশ এমনই এক বিষয়,যার জানার কোন শেষ নেই।মহাকাশ সম্পর্কে প্রতিদিন নতুন নতুন খবর শোনা যায়।যেমন - গ্রহ নক্ষত্রের খবরাখবর, রকেট লঞ্চ, ব্ল্যাক হোল বা কোন গ্যালাক্সি আবিষ্কার ইত্যাদি।আর আপনাকে এই সমস্ত খবরের আপডেট দেওয়ার জন্য “মহাকাশচারনা” সবসময় তৈরি থাকে।তাই মহাকাশ সম্পর্কে সবসময় আপডেটেড থাকার জন্য “মহাকাশচারনা” চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল আইকনের অল নোটিফিকেশনে ক্লিক করে দিন।
বলুন তো, কোন গ্রহের সবথেকে বড়ো বলয় আছে, সবথেকে ছোট গ্রহাণুর নাম কি, শুক্র সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ হওয়া সত্তেও সবথেকে গরম কেন, মহাকাশ এত ঠাণ্ডা কেন?
আজকে এইসমস্ত মজাদার ও আকর্ষণীয় তথ্যের বিষয়েই আলোচনা করা হল।সুতরাং অবশ্যই শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
১) বুধ এবং শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ বা চাঁদ নেই
আমাদের সৌরজগতের ৮ টি গ্রহের মধ্যে ৬ টি গ্রহের উপগ্রহ থাকলেও বাকি দুটি অর্থাৎ বুধ এবং শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।
২) রহস্যময় লাভা গ্রহ
পৃথিবী থেকে ৪০ আলোকবর্ষ(40 lightyears) দূরে অবস্থিত একটি গ্রহের আকার প্রায় পৃথিবীর দিগুন।নাসার দ্বারা খুঁজে পাওয়া এটি একটি রহস্যময় গ্রহ কারণ, প্রথমে মনে করা হয় যে এই গ্রহে জল রয়েছে।পরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন এই গ্রহে হীরে রয়েছে এবং পরবর্তীকালে জানা যায়, এই গ্রহ আসলে লাভা দ্বারা গঠিত।তারপর থেকেই এই গ্রহটিকে লাভা গ্রহ বলা হয়। এই গ্রহটির নাম ৫৫ কেঙ্করি ই(55 Cancri e)।
গ্রহটি তার নক্ষত্রকে খুব কাছ দিয়ে পরিক্রমণ করে।গ্রহটির যে অংশ সূর্যের সামনে থাকে সেটির উষ্ণতা প্রায় ২৭০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এবং ওপর অংশটির উষ্ণতা থাকে প্রায় ১১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।এত তাপমাত্রার কারণ বিজ্ঞানীরা এখনও খুঁজে পাননি।এইজন্য বর্তমানে এই গ্রহ নিয়ে গবেষণা চলছে।
৩) বেশিরভাগ গ্রহানুকে মঙ্গল ও বৃহস্পতি আটকে দেয়
মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে গ্রহাণু বেষ্টনী আছে। এই গ্রহদুটি তাদের মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে বেশিরভাগ গ্রহানুকে পৃথিবীর দিকে আসতে বাধা দেয়।
· ৪) নেবুলা কি?
আপনি তো নীহারিকা বা নেবুলার কথা শুনেছেন।কিন্তু জানেন, নেবুলা শব্দের অর্থ কি এবং এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে আগে কি বলা হত?
আসলে নেবুলা শব্দের অর্থ হল বাদল।ধুলো,হাইড্রোজেন,হিলিয়াম ও বিভিন্ন আইওনাইজড গ্যাসের মিশ্রণে নেবুলা তৈরি হয়।গ্যাস, ধুলো ও বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু পরস্পরের দিকে আকর্ষিত হয়ে একত্রিত হয় এবং নেবুলা সৃষ্টি করে।নীহারিকা খুব হালকা ও কম উজ্জ্বল হয় এবং অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকে।এর উষ্ণতা প্রায় -২৭২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে।আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্যালাক্সি, এন্ড্রোমেডাকে আগে এন্ড্রোমেডা নেবুলা বলা হত।
· ৫) সবথেকে মহামূল্যবান গ্রহাণুর নাম কি?
আপনি কি জানেন, নাসা একটি মহামূল্যবান গ্রহাণুর খোঁজ পেয়েছে।এই গ্রহাণুটি মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে অবস্থিত গ্রহাণু বেষ্টনীতে রয়েছে।গ্রহাণু বেষ্টনীতে যেসব ক্ষুদ্র গ্রহাণুগুলি রয়েছে, এটি তাদের মধ্যে একটি।কিন্তু প্রশ্ন
হল, নাসা এই গ্রহাণুর বিষয়ে জানতে এত আগ্রহী কেন??
এই গ্রহাণু মূলত লোহা,নিকেল,সিলিকা দিয়ে তৈরি, তবে এর মধ্যে আরও অন্যান্য ধাতু রয়েছে।এর মধ্যে যে পরিমাণ লোহা রয়েছে, তার দাম হতে পারে আনুমানিক ১০ হাজার কোয়াড্রিলিয়ন পাউন্ড সেইজন্য নাসা ২০২২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে এই গ্রহানুতে মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।এলন মাস্কও এই মিশনে নাসার সঙ্গে আছে।
এই গ্রহাণুর নাম “১৬ সাইকি”।
· ৬) ভারতের নিজের তৈরি প্রথম স্যাটেলাইটের নাম কি?
আপনি কি জানেন ভারতের নিজের তৈরি স্যাটেলাইটের নাম কি?
১৯৭৫ সালে রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে আর্যভট্ট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।কিন্তু ভারতের নিজের তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট ছিল রোহিণী।আর্যভট্ট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর থেকেই ভারতীয় বিজ্ঞানীরা নিজের তৈরি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেন।
রোহিণী সিরিজের মোট চারটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।১৯৭৯ সালে এই সিরিজের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়।
· ৭) কোন গ্রহে পাথরের বৃষ্টি হয়?
মহাকাশে অনেক রহস্যময়
গ্রহ রয়েছে।এমনই একটি রহস্যময় গ্রহ রয়েছে, যেখানে পাথরের বৃষ্টি হয়।আপনারা কি জানেন
এই গ্রহের নাম কি? তো চলুন জেনে নেওয়া যাক,
করোট-7B নামক একটি গ্রহ রয়েছে,যা পৃথিবীর থেকে দিগুন বড়।এই গ্রহেই পাথরের বৃষ্টি হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হল কেন এই গ্রহে পাথরের বৃষ্টি হয়??
আসলে এই গ্রহের তাপমাত্রা অনেক বেশি। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এই গ্রহের পাথর গলে যায় এবং বাষ্প হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং বৃষ্টি রুপে পতিত হয়।
· ৮) ডেজা ভু কি?
আপনি ডেজা ভু কথাটা হয়তো শুনেছেন।কিন্তু জানেন এর অর্থ কি?
আপনি হয়তো এখন যা করছেন বা এখন আপনার সাথে যা ঘটছে সেটা হয়তো আগেও আপনার সাথে হয়েছে।এইরকম তো আপনার একবার হলেও মনে হয়েছে।আর এই ঘটনাকেই ডেজা-ভু বলা হয়।অনেকে মনে করেন, এটা হয়তো প্যারালাল ইউনিভার্সের অন্য কোনো গ্রহে আমাদের মতো হুবহু দেখতে ব্যক্তির সঙ্গে ঘটে গেছে, কিন্তু এখন সেটা আমাদের সঙ্গে ঘটছে।
৯) শুক্র উল্টো দিকে ঘোরে
পৃথিবীতে পূর্বদিকে সূর্য ওঠে এবং পশ্চিম দিকে
অস্ত যায়, এটা আমারা সবাই জানি। কিন্তু আপনি কি জানেন, সৌরজগতের কোন গ্রহে পশ্চিম দিকে
সূর্য ওঠে?
শুক্র ও ইউরেনাস ব্যাতিত সব গ্রহই পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে অর্থাৎ
ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে নিজের অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খায়। কিন্তু শুক্র গ্রহ তার
ঠিক উল্টো অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে মানে ঘড়ির কাঁটার দিকে নিজ অক্ষকে কেন্দ্র
করে ঘুরপাক খায়। তাই শুক্র গ্রহে সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে এবং পূর্বে অস্ত যায়।
১০) বৃহস্পতি গ্রহের ঝড়
আপনি কি জানেন, বৃহস্পতি গ্রহে একটি বৃহৎ লাল বিন্দু
আছে, যা গ্রেট রেড স্পট নামে পরিচিত। ১৮৩০ সালে এটি প্রথম দেখা গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের
ধারণা অনুযায়ী তার আগেও এই বিন্দুর অস্তিত্ব ছিল। এটি আসলে ৪৩২ কিমি/ঘণ্টা বেগে বয়ে
চলা বৃহস্পতি গ্রহের ঝড়, যা অনেক বছর ধরে হয়ে চলেছে। আপনি জানলে অবাক হবেন যে এই ঝড়
এতটাই বড় যে, এরমধ্যে প্রায় ১০০০ টা পৃথিবী ঢুকে যেতে পারে। নাসার মতে, আগামী ২০ বছরের
মধ্যে এই ঝড় থেমে যেতে পারে।
0 Comments
Post a Comment